৮ অক্টোবর ২০২৬ (বিবিনিউজ):যারা অপরাধ করে দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন, তাঁদের দেশে আসার আর কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। তিনি বলেন, “যাঁরা অপরাধী, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁদের বিচার হবে। এটি আইনি প্রক্রিয়া এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সরকার কাজ করে যাচ্ছে।”
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সাভার উপজেলা পরিষদ হলরুমে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক প্রস্তুতি সংক্রান্ত এক বিশেষ সভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে এবারই প্রথম শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর ও নিরাপদে উদযাপিত হবে। দুর্গাপূজায় কোনো ধরনের হুমকি নেই এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সুষ্ঠু ও সুন্দর ভাবে তাঁদের পূজা উদযাপন করবেন।
সাভার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হ্যালো ডিসি ফরিদা খানম। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (বাবু)।
নিরাপত্তায় জিরো টলারেন্স ও প্রশাসনের কড়া নির্দেশনা
সভায় বক্তারা পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, পূজামন্ডপে বিশৃঙ্খলা, উসকানি, মাদক, ইভটিজিং, নারী ও শিশু হয়রানি কিংবা দুষ্কৃতিকারীদের তৎপরতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। গুজব ছড়ানোর আগেই তা শনাক্ত ও প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মহালয়া থেকে শুরু করে পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মন্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা বডিওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইসিস রেসপন্স টিম, কুইক রেসপন্স টিম, ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।
সভায় জানানো হয়, এবার সাভার ও আশুলিয়ায় মোট ২৩৮টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সাভারে ১৩০টি এবং আশুলিয়াতে ১০৪টি মন্ডপ রয়েছে, যার মধ্যে ৩৫টিকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপগুলোতে আইপি ক্যামেরা স্থাপন, ভিডিও ধারণ ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ফায়ার সেফটির অংশ হিসেবে প্রতিটি মন্ডপে কমপক্ষে ৫ কেজি ক্ষমতার অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং জেনারেটর প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জাবের মোঃ সোয়াইব, সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রফিকুল ইসলাম ইসান, সাভার ও আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি), পূজা উদযাপন কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভা শেষে প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সমন্বয়ে একটি সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও সম্প্রীতিময় দুর্গাপূজা সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
সাভার ও ধামরাইয়ে নিরাপদ ও উৎসবমুখর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে- প্রতিমন্ত্রী টুকু
